নোবেল শান্তি বিজয়ীদের শান্তির দৌড়!!

peace-sign-together

২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী একমাত্র বাংলাদেশী ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস। নোবেলজয়ের পরে তিনি রাজনীতিতে নামতে চেয়েছিলেন। দেশবাসী চাননি বলে তিনি আর পা বাড়াননি এই পথে। কথা হলো, রাজনৈতিক দল গঠন না করে কি দেশ গঠনে শরিক হওয়া যায় না ? ডঃ ইউনুস কি পারেন না নাসরিননগর বা নাসরিননগরে ভুক্তভোগী গৃহহীনদের আবাস গড়ে দিতে! ওদেরকে ঘর বাড়ি নির্মাণ করে না দিক, তাদের পাশে তো দাঁড়াতে পারতেন ইউনুস। সান্ত্বনা অন্তত দিতে পারতেন। এসবের আশেপাশেও কখনো দেখা যায় না শান্তিতে নোবেলজয়ী ডঃ ইউনুস বা গ্রামীনব্যাংককে। নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির আগে তিনি দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কী ভূমিকা রেখেছিলেন সে প্রসঙ্গে না-ই গেলাম। পুরস্কারপ্রাপ্তির পরে তিনি বা তার প্রতিষ্ঠান দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কী কাজ করছেন? দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে তার সোচ্চার হওয়া উচিত। শান্তিতে নোবেলজয়ী হিসেবে তার মানবিকবোধ থেকেই এগিয়ে আসা দরকার ছিল নাসিরনগর বা গোবিন্দগঞ্জের ভুক্তভোগীদের পাশে। ভবিষ্যতেও তিনি যদি এ ধরণের সামাজিক ও মানবিক কাজে যুক্ত না হন, তবে একদিন ইতিহাস তাকে পরিহাসের পাত্রে রূপান্তর করতে পারে।

মিয়ানমারে পাখির মতো মানুষ মারছে সেনারা। তা নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না সে দেশের নোবেলজয়ী অং সান সুচি’র। অথচ তিনি ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন মিয়ানমারের সামরিকতন্ত্রের বিপক্ষে অহিংস ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের জন্যে। সুচি’র দল ন্যাশানাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি এখন রাষ্ট্রক্ষমতায়। প্রশ্ন হল, শান্তিতে নোবেল জয় করে তিনি মিয়ানমারের এই পরিস্থিতিতে চুপ করে আছেন কিভাবে? নাকি নোবেল পুরস্কার তার জীবনে শান্তি এনেছে বলেই দেশ ও বিশ্বের শান্তি নিয়ে ভাবছেন না আর!

তিব্বতে শান্তিরক্ষায় অবদানের জন্যে নোবেলজয়ী দালাই লামাকেও নিশ্চুপ দেখা যায় বিশ্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ব্যত্যয়ের সময়ে। ২০১৪ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী ভারতের কৈলাস সত্যার্থী ও পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজারীকে তো বিশ্ববাসী আর চোখেই দেখেন না শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো কার্যক্রমে। তাহলে এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, কেনই বা তাদেরকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছিল ? নোবেল পুরস্কার জয়ের পরেও তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ।

অন্যদিকে ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী ভারতের অমর্ত্য সেনকে প্রায়শ দেখা যায়, দেশের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরে সমাধানের পথ বাতলে দিতে। অথচ, এই অঞ্চলে যারা যারা শান্তিতে নোবেল জিতেছেন তারা রয়েছেন নিশ্চুপ। এ ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে, ভবিষ্যতে তারা আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন।

-লিখেছেন অনুরূপ

লেখা সূত্র: নাট্য নির্মাতা ইমরাউল রাফাত(ফেসবুক)।


*

*

Top