ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে সাফাতরা

Safat1

টিবিটি জাতীয়: ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বনানীর দ্য রেইনট্রি হোটেলে দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে সাফাতরা। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মনিরুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম একজন নাঈম আশরাফ ওরফে মো. আব্দুল হালিম ওরফে বাটপার নাঈম। তাকে বুধবার মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।ডিএমপির এ শীর্ষ কর্মকর্তা নাঈমকে প্রাথমকি জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বলেন, সে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আরও অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে উপস্থাপন করে রিমান্ড চাওয়া হবে।

অপরদিকে, এই ঘটনায় পূর্বে গ্রেফতার সাফাত আহমেদ, সাদমান সাকিফ, ড্রাইভার বিল্লাল ও দেহরক্ষী রহমত আলিকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা যার যার ভূমিকার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানান মনিরুল ইসলাম।এই ঘটনার শুরু থেকেই প্রচারণা ছিল আসামিরা প্রভাবশালী’ এ কথা উল্লেখ করে মনিরুল ইসলাম বলেন, আইনের চোখে প্রভাবশালী বলে কোনো কিছু নেই। যত প্রভাবশালীই হোক কাউকে ছোড় দেয়া হবে না। যদি আরও কোনো প্রভাবশালীর নাম বেরিয়ে আসে তাদেরও ছাড় দেয়া হবে না।এক প্রশ্নের জবাবে মহানগর পুলিশের শীর্ষ এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, মেয়েরা আইনানুযায়ী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেফতারদের থেকে আমরা তথ্য পাচ্ছি। তা নিয়ে মেয়েদের সঙ্গে কথা হচ্ছে।

অপরদিকে ধর্ষণে অভিযুক্তদের থেকে ভিকটিমরা আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন- এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে এই কর্মকর্তা বলেন, আর্থিক লেনদেন হলেও ধর্ষণ হতে পারে।তিনি বলেন, তবে হোটেল রেইনট্রি কর্তৃপক্ষ ধর্ষণের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল কিনা তদন্তে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি এমন প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এখনও কোনো ভিডিও পাইনি। এসময় ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায়, যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন, উপ কমিশনার (ডিসি-মিডিয়া) মো. মাসুদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ ওই দুই ছাত্রীকে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। এই ঘটনার এক মাস পর গত ৬ মে রাতে নির্যাতিতা এক ছাত্রী বাদী হয়ে বনানী থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে- সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী ও ড্রাইভার বিল্লাহ হোসেনকে। আসামিদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তারা রিমান্ডে রয়েছে।


*

*

Top