তালাশের পাঁচ বছর পূর্তি এবং ষষ্ঠ বছরে পথ চলা শুরু

11807579_10153507374317188_5238704036981556843_o
৯ ডিসেম্বের। অদ্ভুতভাবে অনেক কিছু মিলে যাচ্ছে এই দিনটিতে। ২০১১ সালের এই দিনেই ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের পর্দায় যাত্রা শুরু করে তালাশ। কাকতালীয়ভাবে ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বরে আবার তালাশ প্রচারের দিন আসলো। তালাশের প্রথম পর্বের বিষয় ছিল ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’। আজ ৫ বছর পুর্তি তালাশের। এবারের পর্ব সংখ্যা ১১১। এবারের বিষয়ও ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’। এই ৫ বছরে এমন কোন দিন নেই যেদিন কাজ বা অনুসন্ধান থেকে মুক্ত থেকেছে তালাশ টিম। এই ৫ বছরে তালাশ টিমের প্রতিটি সদস্যের রক্তের ভেতরে অনুসন্ধান ঢুকে গেছে। প্রত্যেকটি দিন বা প্রত্যেকটি ঘটনা হয়তো ধারাবাহিকভাবে মনে পড়ে না। কিন্তু ফ্ল্যাশব্যাকের মতো যেসব ঘটনা সামনে আসে তাতে তালাশ টিম কখনো শিহরিত হয়, কখনো সন্তুষ্টিতে পূর্ণ হয়।

তালাশের ১১১তম পর্বের শুটিং

বাংলাদেশের অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠানের পালাবদলের কেন্দ্রে তালাশের অবস্থান। তালাশ শুরু হওয়ার আগে বাংলাদেশের মানুষ এ ধরণের অনুষ্ঠান বলতে ‘অপরাধমূলক’ অনুষ্ঠানকেই বুঝতো। কিন্তু তালাশের পর মানুষ এখন ‘অনুসন্ধানমূলক’ অনুষ্ঠানও বোঝে। অর্জনের হিসাব নিকাশ করতে কখনো টেবিলে বসার সময় পায়নি তালাশ টিম। তবে আমরা এটুকু বুঝেছি যে, এই দেশের প্রত্যেক পরিবারের কেউ না কেউ তালাশ দেখে। তালাশ টিম কোন কিছু শিখে এসে অনুষ্ঠান শুরু করেনি। কিন্তু শিখতে চেয়েছে ঘটনা থেকে, মানুষের কাছ থেকে। শেখার সেই প্রক্রিয়া হয়তো আরো বহু বছর চলবে।

তালাশ ব্র্যান্ডের বই থেকে শুরু করে চা পর্যন্ত পাওয়া যায়
এই ৫ বছরে এক একটি দিন গেছে আর তালাশ টিম পরিপক্কতার দিকে এগিয়ে গেছে। এখন তালাশের প্রত্যেকটি অনুষ্ঠান প্রযোজনা এবং পরিচালানা ‘তালাশ টিম’ নিজেই তৈরি করে। একটা ইন্ডাস্ট্রিতে কোন নতুন ধারণা আসলে বেশ কিছু বছর ধরে সেটারই ধারাবাহিকতা চলতে থাকে। বাংলাদেশের টেলিভিশন ইন্ডাস্টিতে হয়তো তালাশের ধরণের অনুষ্ঠান আরো অনেক বছর চলবে। নাম যাই হোক, হয়তো আরো অনেক বছর বিভিন্ন টিভিতে ‘তালাশ’ই দেখবে এ দেশের দর্শক।

এখন থেকে ক্যাপ আর গেঞ্জিও পাওয়া যাবে
তালাশের প্রতিদ্বন্দ্বী তালাশ নিজেই। তাই প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেকেই ছাড়িয়ে যাওয়া চ্যালেঞ্জ থেকেছে এবং আছে। তালাশ টিম যে প্রক্রিয়ায় কাজ করে তাতে নেতৃত্বের গুনাবলী তৈরি হয় টিমের সদস্যদের মধ্যে। সেই গুনাবলী একেকজনকে আরো অনেককিছুর নেতৃত্ব দেয়া শেখায়। ২০১১ সালের পর বাংলাদেশের বেসরকারি টেলিভিশনগুলোতে যত অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠান তৈরি হয়েছে তার অনেকগুলোতেই তালাশের অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করা লোকজনের সম্পৃক্ততা আছে। এর ফলে নতুন নতুন নামে অনুষ্ঠান তৈরি হচ্ছে বটে, কিন্তু দর্শক লাভবান হচ্ছে। সমাজের অনেক অসামঞ্জস্য এবং অপরাধের ঘটনা উঠে আসছে।
‘তালাশ’ এর মতো অনুষ্ঠানের জন্য কাজের স্বাধীনতা এবং উপযুক্ত পরিবেশ দরকার। ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন শুরু থেকেই সেসব নিশ্চিত করেছে এবং একদিনের জন্যও তার হেরফের হয়নি। আসলে এটার জন্য প্রথমত: ভাবনার আধুনিকতার দরকার ছিল। সেই দরকারের কোন কমতি ছিল না কখনো। এ কারণেই তালাশ টিমের কোন সদস্য যখন অন্য কোন টেলিভিশনে এমন ধরণের অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পেয়েছে তখন কর্মকাঠামো তৈরি করতে তালাশকেই উদাহরণ হিসেবে নিয়েছে। এর ফলে ভালো কর্মপরিবেশের ধারণা বাংলাদেশের টেলিভিশন মিডিয়াতে বিস্তৃত হয়েছে।

তালাশের শততম পর্ব পূর্তির কেক
তালাশ টিম কখনো দর্শকপ্রিয়তার কথা চিন্তা করে অনুষ্ঠান তৈরি করেনি বা অনুসন্ধান করেনি। বিষয়ের বৈচিত্র বা গুরুত্বই প্রাধান্য পেয়েছে সব সময়। তারই ধারাবাহিকতায় দর্শকপ্রিয়তা এসেছে। তবে দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। তারা তাদের উদারতা দিয়েই তালাশ টিমকে তাদের পরিবারের সদস্য করে নিয়েছেন। না হলে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা বাজলেই তালাশ টিম সবার ঘরে হাজির হতে পারতো না।
তালাশে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার কথা এই ৫ বছর পরে এসে আর বলতে হবে না বলেই বিশ্বাস করি আমরা। এই টিমের কোন সদস্য ধন্যবাদের জন্য বা প্রশংসার জন্য অপেক্ষা করেনি। তবে সাধারন মানুষ বা দর্শক তাদের অনুভূতি দিয়ে যে প্রতিদান দিয়েছে তাতেই চলে যাবে তাদের।

তালাশের তৃতীয় পর্বের শুটিং স্পট থেকে
ষষ্ঠ বছরে পা দিলো তালাশ। নতুন করে প্রতিজ্ঞা বা অঙ্গীকার করার কিছু নেই। তালাশ টিম শুধু এটুকু বিশ্বাস করে যে, দর্শক যতদিন চাইবে ততদিনই চলবে তালাশ।
মুনজুরুল করিম
উপস্থাপক
তালাশ

*

*

Top