জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে চিচিংগার বাম্পার ফলন

Joypurhat

টিবিটি সারাদেশ: ধান চাষ না করে তুলনামূলক উঁ জমিতে চিচিংগা চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার সাগড়ামপুর গ্রামের কৃষকেরা। চিচিংগার বাম্পার ফলন ও উচ্চ দাম পাওয়ায় ওই এলাকার চাষিরা চিচিংগা চাষে এখন ঝুঁকে পড়েছেন। ইতোমধ্যে সাগড়ামপুর গ্রামটি জেলার মধ্যে সবজি চাষের শ্রেষ্ঠ গ্রামের স্বীকৃতি লাভ করেছে। কৃষি বিভাগ সূত্র বাসস’কে জানায়, ক্ষেতলাল পৌর এলাকার সাগড়ামপুর গ্রামের কৃষকেরা গত কয়েক বছর ধরে চিচিংগা চাষ করে আসছে। এ সবজি চাষ করে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি তাদের পরিবারে ফিরে এসেছে সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য। পাইকারী ক্রেতারা জমি থেকে চিচিংগা সংগ্রহ করেন এবং ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার হাটবাজারগুলোতে সরবরাহ করে থাকেন।

 এ সবজি জমি থেকে বিক্রি হওয়ায় চাষিদের বাড়তি পরিবহন খরচ করতে হয়না আবার সময়ও সাশ্রয় হয়। ফলে বেশি লাভের আশায় ধান চাষের পরিবর্তে উঁচু জমিতে অন্যান্য সবজির পাশাপশি চিচিংগা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন ওই এলাকার কুষকরা। উজানের ঢলে জেলার অধিকাংশ এলাকা ডুবে গেলেও ক্ষেতলালের সাগড়ামপুর গ্রামের চারপাশে প্রায় ৩৬ বিঘা উঁচু জমিতে চিচিংগা চাষ করা হয় এবারও। সাগড়ামপুর গ্রামের চিচিংগা চাষি আজাদুল ইসলাম জানান, প্রথমে ২২ শতক জমিতে স্বল্প মেয়াদী এ চিচিংগা চাষ শুরু করেন। খরচ বাদ দিয়ে সে বছর প্রায় ৩৬ হাজার টাকা লাভ থাকে। এ ফসল লাভ জনক হওয়ায় প্রতি বছর চিচিংগা চাষ করে আসছি। চলতি বছরও প্রায় ৪৬ শতক জমিতে চিচিংগা চাষ করে ইতিমধ্যে প্রায় ৪২ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন।

কালাই উপজেলার আতাহার গ্রামের চিচিংগার পাইকারী ব্যবসায়ী আবুল কাশেম জানান, ক্ষেতলাল উপজেলাতে চিচিংগা উৎপাদনরে গুনগত মান খুব ভাল। সে কারণে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাতে এর চাহিদা অনেক বেশি। চাষিদের জমি থেকে বর্তমান বাজার দরে প্রতি মণ চিচিংগা প্রায় ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত পাইকারী কিনছেন।  ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর কবির বাসস’কে জানান, এ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বিভিন্ন ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য আইএফএমসি কৃষক মাঠ স্কুল স্থাপন করা হয়েছে। ওই কৃষক মাঠ স্কুলে কৃষকদের সবজি চাষের জন্য উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহের পরামর্শ এবং বালাইনাশক ব্যবহার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হাতে-কলমে শেখানো হয়ে থাকে। বর্তমান বাজারে চিচিংগা চাহিদা থাকা ও দাম ভাল পাওয়ায় আগামীতে চিচিংগা চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে এমন আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ। বাসস


*

*

Top