চাঁদপুরে কড়া নিরাপত্তায় চলছে মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচি

Chandpur

টিবিটি সারাদেশ:  মা ইলিশের ডিম ছাড়ার সুযোগ দিন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা নিন’ এ স্লোাগানকে সামনে রেখে গত শনিবার মধ্যরাত থেকে সারাদেশের মতো চাঁদপুরে ও শুরু হয়েছে মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম। এ সময় ইলিশসহ সব মাছ শিকার, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রি ও পরিবহন নিষিদ্ধ করেছে সরকার। সে লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে নদীতে নিয়মিত দিন-রাত পালাক্রমে চলছে কঠোর নজরদারি।

পদ্মা-মেঘনা নদীর চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুর জেলার চর আলেকজেন্ডার পর্যন্ত একশ’ কিলোমিটার এলাকা হচ্ছে ইলিশ প্রজননের নিরাপদ স্থান। সে আলোকে এসব এলাকায় জেলা টাস্কফোর্স কমিটি মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করছে যৌথভাবে। সে কারণে এখন পর্যন্ত কোন জেলে নদীতে ইলিশ শিকারে নামতে পারেনি। চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সফিকুর রহমান বলেন, ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলা টাস্কফোর্স ব্যাপক প্রচার প্রচারণা এবং জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ীসহ জনসাধারণকে সচেতন করতে উদ্বুদ্ধকরণ সভা করছে প্রতিদিন। মা ইলিশ রক্ষায় প্রতিদিন নদীতে অভিযান চলছে। জেলেদের ইলিশ ধরা থেকে বিরত রাখতে চাঁদপুরের প্রশাসন বদ্ধ পরিকর।

গত দু’দিন চাঁদপুর মাছঘাট ছিল মাছ শূন্য। মাছঘাটের আড়তগুলোতে অলস সময় কাটাচ্ছেন মৎস ব্যবসায়ীরা। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল, পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, মৎস্য জীবিসমিতি, সাংবাদিক সমাজ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে এ বছর মা ইলিশ রক্ষার মাধ্যমে চাঁদপুরে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে আরো কয়েক গুণ বলে জানান সচেতন মহল। চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিছুর রহমান বলেন, মিঠা পানির কারণে চাঁদপুর ইলিশ প্রজনন এলাকা হিসেবে পূর্ণিমার আগে ও পরে ২২ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময় যেনো নিরাপদ এলাকা হিসেবে ইলিশ মাছ সম্পূর্ণ ডিম ছাড়তে পারে সে জন্য প্রশাসনসহ সবাই কাজ করছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনিস্টিটিউট চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের প্রধান মৎস গবেষক ডা. মাসুদ হোসেন খান জানান ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে এ অভিজানের ফলে ৬ লাখ ৬৮ হাজার ২৯১ কেজি ডিম উৎপাদন হয়। যার ফলে ৩৯ হাজার ২৬৮ কেজি জাটকা যুক্ত হয়, সর্বোপরি জেলেরা ৩ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ মাছ আহরণ করে। এ বছর ও যদি আগের মতো মা-ইলিশ মাছ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারে তবে আমরা আরো বেশি ইলিশ আহরন করতে পারবো। চাঁদপুর মাছ ঘাট মৎস্য বণিক সমিতির সাধারন সম্পাদক শবেবরাত জানান, অতীতে কয়েক বছর আমারা ইলিশ শূন্যতাই ভুগেছি। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে মা ইলিশ ও ঝাটকা রক্ষা পাওয়ায় আমরা হারানো ইলিশ আবার ফিরে পেয়েছি। জাটকা নিধন ও মা ইলিশ রক্ষার মাধ্যমে গত ২ বছরে চাঁদপুরে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে কয়েক গুণ। এ বছরেও জেলা প্রশাসনের মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচি মেনে আমরা ২২ দিন ঘাটে মাছ বিক্রি বন্ধ রাখবো। বাসস


*

*

Top