খালেদার আপিল নিয়ে আইনজীবীদের বৈঠক

image-19558-1519065376

টিবিটি রাজনীতিঃজিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর আপিল করতে বৈঠক করেছেন খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা। আজ মঙ্গলবার সকাল নয়টায় এ বিষয়ে আবারো বৈঠকে বসবেন তারা।

সোমবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে সিনিয়র আইনজীবী এ.জে মোহাম্মদ আলীর ধানমন্ডির ১১নম্বর রোডে অবস্থিত চেম্বারে এই বৈঠক শুরু হয় বলে জানিয়েছেন আইনজীবী ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান। সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় এ রিপোর্ট লেখা পযন্ত বৈঠক চলছিল।

বৈঠকে এ জে মোহাম্মদ আলী ছাড়া অন্যরা হলেন- সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, সমিতির সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লা মিয়া, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘অনেক বড় রায়। রায়ের খুটি নাটি দেখা হচ্ছে। কোন গ্রাউন্ডে আপিল দায়ের হবে তা এখনি বলা যাচ্ছেনা। আমরা মঙ্গলবার সকাল নয়টায় সুপ্রিম কোর্টে এ নিয়ে আবারো বসবো। আশা করছি মঙ্গলবারই আপিল দায়ের করতে পারবো।’

এর আগে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন জানিয়েছিলেন, আপিলের সব ধরনের প্রস্ততি তাদের নেয়া আছে। রাতে রায় পড়ে মঙ্গলবারই আপিল ফাইল করা হবে।

এদিকে, বিএনপিপন্থী আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল জানান, রায় পড়ে গ্রাউন্ড ঠিক করতে হবে। এরপরই নির্দিষ্ট শাখায় আপিল দায়ের করা হবে।

তবে সুপ্রিমকোর্টের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য মামলাটির নম্বর পড়লে তারা একই সঙ্গে জামিন আবেদনের শুনানি করবেন। তবে বুধবার সরকারি ছুটি থাকায় বৃহস্পতিবার নাগাদ শুনানি হতে পারে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। যে রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি সোমবার গ্রহণ করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এর আগে সোমবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে ১১৭৪ পৃষ্ঠার রায় পুর্নাঙ্গ রায় পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

রায়ের পর্যবেক্ষনে আদালত বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নামসর্বস্ব জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অনুকূলে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা স্থানান্তর করেছেন। এর দায় তিনি কোনভাবেই এড়াতে পারেন না। সরকারি এতিম তহবিলের টাকা নিয়ম অনুযায়ী এতিমদের কল্যাণে ব্যয় করা উচিত ছিল। কিন্ত তা করা হয়নি।

পর্যবেক্ষনে আরো বলা হয়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট গঠন করে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ মামলার ছয়জন আসামি প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে লাভবান হয়েছেন। তারা রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন।


*

*

Top