কাওয়াসাকির নতুন চার বাইক বাজারে

kawasaki-inner120180321064801

বাংলাদেশের বাজারে প্রথমবারের এলো জাপানি মোটর বাইক ব্র্যান্ড কাওয়াসাকি। বিশ্ববাজারে ব্যাপক জনপ্রিয় মোটর সাইকেলটি বাংলাদেশে এনেছে এশিয়ান মোটর বাইক লিমিটেড।

আজ বুধবার গুলশানে এশিয়ান মোটরবাইকের শো-রুমে আনুষ্ঠানিকভাবে কাওয়াসাকির বাইক উন্মোচন করা হয়। প্রথমে ৪টি মডেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে এই ব্র্যান্ড।

চারটি মডেল হল কেএলএক্স১৫০, ডি-ট্রেকার, জেড১২৫ প্রো এবং কেএসআর১১০ প্রো।

এগুলোর মধ্যে, কেএলএক্স১৫০ এবং ডি-ট্রেকার বাইক দু’টির ইঞ্জিত ক্ষমতা ১৪৪ সিসি। জেড১২৫ প্রো এর ইঞ্জিন ক্ষমতা ১২৫ সিসি আর কেএসআর ১০০ প্রো এঁর ইঞ্জিন ক্ষমতা ১১১ সিসি। অন-রোড, অফ-রোড রাইডিং এর বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিশেষভাবে বাইকগুলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ছিলেন কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের মোটরসাইকেল অ্যান্ড ইঞ্জিন কোম্পানীর সিনিয়র সেলস ম্যানেজার জিন ইনোয়ে, এশিয়ান মোটরবাইকস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেওয়ান সাজেদুর রহমান, পরিচালক কসুকে ইয়শিদা, পরিচালক আরমান রশিদ ও মহাব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলামসহ প্রতিষ্ঠান দু’টির উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।

জিন ইনোয়ে বলেন, গত বছরের আগস্ট মাসে আমাদের কাওয়াসাকি টিম বাংলাদেশের মোটরসাইকেল বাজারের অবস্থা পরিদর্শন করে এবং আমরা মোটরসাইকেল মালিকদের মধ্যে মোটরসাইকেলের প্রতি অন্যরকম উদ্দীপনা দেখতে পেয়েছি। বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রায় মোটরসাইকেল অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। এশিয়ান মোটরসাইকেল লিমিটেডের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশে কাওয়াসাকি মোটরসাইকেল বাজারজাত শুরু করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং এ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশের মানুষকে আমরা সেরা অভিজ্ঞতা প্রদান করতে পারবো বলে আশা করছি।

পর্যটন বান্ধব বাংলাদেশের প্রশংসা করে জিন ইনোয়ে বলেন, আমরা জেনেছি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট এসব অঞ্চলে খুবই চমৎকার সড়ক আছে। এসব সড়কে আমাদের বাইকগুলো চালিয়ে চালকেরা খুবই অ্যাডভেঞ্চার অনুভব করবেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে একান্ত আলাপচারিতায় জিন ইনোয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইটিভি অনলাইনকে বলেন, বাংলাদেশের বাজারে বাইরে থেকে বাইক এনে বিক্রি করতে সরকারকে অনেক শুল্ক দিতে হয়। এছাড়া আমাদের বাইকগুলোর গুণগতমান এবং প্রযুক্তি অনেক উন্নত। তাই কিছুটা দাম বেশি হলেও আমাদের কোয়ালিটির কারণে আমরা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় বাইক নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশেই মোটর বাইক নির্মাণ করতে কাওয়াসাকি বিনিয়োগে আগ্রহী কি না এমন প্রশ্নের মন্তব্যে কাওয়াসাকির এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা মাত্র বাংলাদেশের বাজারে আমাদের কার্যক্রম শুরু করেছি। আমাদেরও সুদূরপ্রসারি চিন্তাভাবনা আছে। আশা করি আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এখানকার বাজার আমরা ধরতে পারব। আর এমনটা হলে আমরা এখানে কারখানা প্রস্তুত করার পরিকল্পনা নিতেও পারি।

অনুষ্ঠানে কাওয়াসাকি এবং এশিয়ান মোটর বাইকের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে কাওয়াসাকি মোটরসাইকেল ক্রেতারা অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা অর্জন করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। নিরবচ্ছিন্ন বিক্রয় পরবর্তী উন্নত সেবা প্রদান ও অরিজিনাল খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহের লক্ষ্যে দেশব্যাপী কাওয়াসাকির মজবুত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে এবং কাওয়াসাকি গ্লোবাল সার্ভিসের উপর ভিত্তি করে কাওয়াসাকি এক্সক্লুসিভ সার্ভিস শপ প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং নিশ্চিত করা হবে যে মোটরসাইকেলগুলো যেনো প্রশিক্ষিত মেকানিক এবং উপযুক্ত সরঞ্জামের মাধ্যমে মেরামত এবং সার্ভিসিং করা হয়। এছাড়া প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ যেনো ডিলারদের কাছে সবসময় পরিমিত পরিমানে থাকে সে বিষয়টিও নিশ্চিৎ করা হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, কাওয়াসাকি মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের জীবনকে আকর্ষণীয় করার জন্য কাওয়াসাকি ক্লাব স্থাপন করা হবে যেখানে কাওয়াসাকি রাইডার বা চালকরা বিশ্বব্যাপী কাওয়াসাকি মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের সঙ্গে যেকোনো বিষয় নিয়ে অনায়াসে যোগাযোগ করতে পারার পাশাপাশি দেশব্যাপী বিভিন্ন ভ্রমণের অংশ হতে পারে।

প্রসঙ্গত, কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড (কে.এইচ.আই) প্রায় অর্ধ শতাব্দী আগে মোটরসাইকেলের উৎপাদন শুরু করে। প্রথম কাওয়াসাকি মোটরসাইকেল ইঞ্জিনটি প্রযুক্তিগত জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে ডিজাইন করা হয়েছিল যা বিমানের বিকাশ ও উৎপাদন থেকে উদ্ভূত হয়েছিল এবং মোটরসাইকেল শিল্পে কাওয়াসাকির প্রবেশের লক্ষ্যে নতুন প্রযুক্তির বিকাশের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ক্রমাগত প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিলো। গত কয়েক বছর ধরে অভিনব প্রকৌশল, শক্তি, নকশা এবং রাইডিং আনন্দ নিশ্চিৎকরণের মাধ্যমে কাওয়াসাকি বাজারে নিজেদের পরিধি বৃদ্ধি করেছে।


*

*

Top