‘কত বছর হইলে বয়স্কভাতা দেয়, আমার তো ১২০, অহনো সময় অয় নাই?’

100-years-old-women-2110806617

টিবিটি সারাদেশ: শরীয়তপুর ‘শেখের মাইয়া হাসিনা এখন নাকি আমাগো দেশের পোদান মন্ত্রী? সে নাকি বয়স্কভাতা দেয়? কত বছর হইলে বয়স্কভাতা দেয়? আমার তো ১০০ বছরের বেশি। আমার কি অহনো বয়স্কভাতা পাওনের সময় অয় নাই? আমি কোন বয়স্কভাতা পাই না। গত বছর ঈদে আমাগো এলাকার মেম্বর শাহ আলম পাজরী আমারে একটা শাড়ি আর একটা কম্বল দিছিল। আমারে আর কেউ কিছু দেয় নাই।’

কথাগুলো বলছিলেন শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ডি.এম খালী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের চর পাইয়াতলী ইয়াকুব মুন্সিকান্দি গ্রামের মৃত আবদুল আজিজ ঢালীর স্ত্রী শত বছরের বৃদ্ধা রুজিয়া।

াকবকদাগত ০৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ভেদরগঞ্জ উপজেলার ডি.এম খালী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের চর পাইয়াতলী ইয়াকুব মুন্সি কান্দি গ্রামের মৃত আবদুল আজিজ ঢালীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় রুজিয়া নামের শত বছরের ওই বৃদ্ধা বাড়ির উঠানে চাঁদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছেন। তাকে ধরে তুলতেই বলে ওঠেন, ‘আগের মতো এহন আর চলতে পারি না। পায়ে অনেক ব্যাথা। বয়স তো আর কম অইলো না। ১২০ বছর বয়স আমার। আমার সম বয়সী অহন আর কেউ বাইচা নেই।’ বাস্তবিক অর্থেই রুজিয়া বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। এখন আর আগের মতো চলতে পারেন না। কিন্তু চোখের জ্যোতি এবং স্মৃতিশক্তি এখনো অনেক প্রখর। তিনি এখনো শুদ্ধভাবে কোরআন শরীফ পড়তে পারেন। আর কথা বলেন স্পষ্টভাবে।

তিনি বললেন, ‘তার ছয়টি সন্তান রয়েছে। তার মধ্যে দুটি ছেলে এবং চারটি মেয়ে। বড় ছেলে আবদুল লতিফ ঢালী এবং ছোট ছেলে জসিম ঢালী। তারা উভয়েই কৃষি কাজ করে। আমি বেশিরভাগ সময় বড় ছেলের ঘরে খাই। ছোট ছেলেও আমাকে অনেক ভালোবাসে। তার সকলেই ভালো আছে। আর বড় মেয়ে রাশিদা আক্তার, মেজ মেয়ে বিলকিছ বেগম, সেজো মেয়ে হামিদা খাতুন এবং ছোট মেয়ে ফখরুন নেছা স্বামীর ঘরে সুখে শান্তিতেই আছে’। তার আক্ষেপ, এতো বয়স হওয়ার পরও তিনি বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন না। রুজিয়া’র দাবি তার বয়স ১২০ বছর। কিন্তু তার জাতীয় পরিচয় পত্রে তার জন্ম তারিখ রয়েছে ২৪ অক্টোবর ১৯১৭। সেদিক হিসেব করলে তার বয়স হয়েছে ১০১ বছর। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার পরিচয়পত্রে বয়স ভুল উঠানো হয়েছে’।

াট্’দবকতএ ব্যাপারে ডি.এম খালী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার শাহ আলম পাজরী বলেন, ‘আমি নতুন মেম্বার হয়েছি। এর আগের টার্মে তার বয়স্কভাতা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কী কারণে পায় নাই তা আমি জানি না। তবে এবার বয়স্কভাতার ফরম আসলে তাকে দেয়ার ব্যবস্থা করব। আর রুজিয়া বেগমের বাড়ি আমার বাড়ির সাথে। আমি প্রতি বছরই তাকে কম বেশি সাহায্য সহযোগিতা করি। এ বছরও তাকে কাপড়, কম্বল দিয়েছি। তার প্রতি আমার দৃষ্টি রয়েছে। কারণ এতো বয়স্ক লোক আমাদের গ্রামে আর নেই।’

এ ব্যাপারে ডি.এম খালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম মাদবর বলেন, ‘আমি এ বছর নতুন চেয়ারম্যান হয়েছি। শুনেছি, আমার ইউনিয়নে ১২০ বছরের বয়স্ক একজন বৃদ্ধা রয়েছেন। তাকে বয়স্কভাতা দেয়া হয়নি। এ বছর বয়স্কভাতার ফরম এলে তাকে দেয়ার ব্যবস্থা করব।’


*

*

Top