একা পেয়ে তরুণীর সঙ্গে অশোভন আচরণ, গ্রেপ্তার দোকানি

30723856_1656504797771971_7105962175063130112_n

আবারও নারী ক্রেতার সঙ্গে অশোভন আচরণ করার পর তরুণীর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন এক দোকানি। ঘটনাটি ঘটেছে মিরপুরে।

দোকানে লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার পর বাসায় ফিরে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন ওই তরুণী। পরে পুলিশ গিয়ে ধরে আনে দোকানিকে।
তরুণীকে একা পেয়ে অসভ্যতা করলেও পুলিশ যাওয়ার পর তার পা ধরে ক্ষমা চান ওই দোকানি। তবে তরুণী ছেড়ে কথা বলেননি। তিনি মামলা করেছেন এবং সেই মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাজধানীর লালমাটিয়া মহিলা কলেজের ওই ছাত্রী বরিবার রাতে ওড়না কিনতে গিয়েছিলেন মিরপুর ১০ নম্বরের হোপের গলিতে। দাম ও রং পছন্দ না হওয়ায় বাধে বিপত্তি।

মধ্যবয়সী ওই দোকানি শুরু করেন অশালীন মন্তব্য। যেটা শুনে ওই ছাত্রী ভেবে পাচ্ছিলেন না কী করবেন। কিন্তু দোকানদার তারপরও বাজে মন্তব্য করতে থাকেন। লজ্জা ও অপমান নিয়ে দাঁড়িয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না।

চারপাশে অনেক মানুষ থাকলেও কাউকে কিছু বলতে না পেরে সাহস নিয়ে দাঁড়িয়ে যান প্রতিবাদে। কিন্তু তাকে একা পেয়ে একজোট হয়ে যায় কর্মচারীরা। ঘিরে ধরে তাকে। তর্কাতর্কির এক পর্যায় কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে।

ভুক্তভোগী ওই বলেন, ‘ঘটনার পর রাতে বাসায় ফিরে শুধু কেঁদেছিলাম। পরে মনস্থির করি এই ঘটনার প্রতিবাদ করব।’

‘কয়েকদিন আগেও ইডেনের এক ছাত্রী চাঁদনি চকের দোকানিদের অশোভন আচরণের ফলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে মিডিয়ার মাধ্যমে আগেই জেনেছিলাম। এরপর ফেসবুকে যোগাযোগ করি টেলিভিশনের এক সাংবাদিকের সঙ্গে। তিনি বিষয়টি জানান নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাজ্জাদ রায়হানকে।’

‘এরপর সাজ্জাদ রায়হান ঘটনাটি মিরপুরের এসি সৈয়দ মামুন মোস্তফাকে জানালে তিনি ঘটনার বর্ণনা শুনে আমাকে একটি অভিযোগ দিতে বলেন।’

‘পরে গতকাল সোমবার রাত নয়টায় মিরপুর মডেল থানা পুলিশের একটি দল মতিন মুন্সি নামের ওই দোকানদারকে থানায় ধরে নিয়ে আসেন।’

ওই তরুণী বলেন, ‘পুলিশ আসার পর দোকানদার নিজের ভুল স্বীকার করে পা ধরে মাফ চান। কিন্তু আমি আইনি প্রক্রিয়াতেই লোকটির শাস্তি চাই। রাতেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয় মিরপুর থানায়।’

ভুক্তভোগী তরুণী জানান, ঘটনার পর থেকে ওই দোকানদারের পরিবার তাকে মামলা তুলে না নিলে দেখে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে।

তবে হুমকিতে টলানো যাবে না ওই তরুণীকে। বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি মামলা তুলে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। তারপরও তারা বার বার কল দিচ্ছে। এই নিয়ে একটু ভয়ে আছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর অঞ্চলের সহকারী উপকমিশনার সৈয়দ মামুন মোস্তফা বলেন, ‘ঘটনা শোনার পর আমি পুলিশের একটি ফোর্স পাঠিয়ে অভিযুক্ত দোকানদারকে তুলে আনি।’

‘পরে ওই নারী নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করলে পুলিশ মঙ্গলবার তাকে মামলা করে আদালতে প্রেরণ করেছে।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘কেউ কখনও এভাবে হয়রাণীর শিকার হলে চেষ্টা করবেন ভিডিও বা রেকর্ডিং রাখার। আর পুলিশকে জানালেই পুলিশ অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।’

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরই অভিযুক্তকে আটক করা হয়। পরে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মাফ চায়।’

‘কিন্তু ওই নারীর মামলার কারণে অভিযুক্তকে আজ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় (শীল্লতাহানির অভিযোগে) আদালতে পাঠানো হয়েছে।’


*

*

Top