আজ দেশে ফিরছেন খালেদা

4583

টিবিটি জাতীয়: তিন মাস লন্ডন সফরে চোখ ও পায়ের চিকিৎসা শেষে যুক্তরাজ্য থেকে বুধবার (১৮ অক্টোবর) বিকাল ৫ টায় দেশে ফিরছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এর আগে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) রাত সোয়া ১০টার দিকে লন্ডনের বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দীন দিদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বিমানবন্দর থেকে গুলশানে নিজ বাসভবন ‘ফিরোজা’ যাবেন তিনি। খালেদা জিয়াকে সংবর্ধনা জানাতে বিএনপির কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নেই। তবে দুপুর থেকেই বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে বিএনপির কেন্দ্র নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে।

দেশে ফিরেই তিনি বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানাবেন। এদিকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকায় দুটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও এখনই তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না বলে পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তারা আশা করছেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তা ছাড়া মঙ্গলবার পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা থানায় পৌঁছেনি। তাকে গ্রেফতারে ওপর মহলেরও কোনো নির্দেশনা নেই। মঙ্গলবার বিকেলে মিরপুরে শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের এক অনুষ্ঠানে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, খালেদা জিয়া একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তা ছাড়া তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এখনও থানায় পৌঁছায়নি।

বিমানবন্দরে খালেদা জিয়াকে সংবর্ধনার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করবে না। তবে রাস্তায় যান চলাচল বিঘ্ন হয়, মানুষের ভোগান্তি হয়- এমন কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হবে না। কাউকে সড়ক দখল করতে দেওয়া হবে না। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বিমানবন্দরে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানানো হবে। দলের পক্ষ থেকে সেই প্রস্তুতিই নেওয়া হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিমানবন্দরে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে চাই। তবে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটালে তাদেরই সব দায়দায়িত্ব নিতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে তিন মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি ও জাতীয় পতাকা অবমাননার দায়ে মানহানির দুটি মামলা। এর আগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দুই বছর আগে বাসে পেট্রোল বোমা মেরে আটজনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলায় খালেদা জিয়াসহ ‘পলাতক’ আসামিদের বিরুদ্ধে গত ৯ অক্টোবর আরেকটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।  জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজির না হওয়ায় ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত। ঢাকার পঞ্চম বিশেষ আদালতে এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর আদালত বৃহস্পতিবার এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় অবশিষ্ট সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।  গত ১৫ জুলাই লন্ডনের উদ্দেশে খালেদা জিয়া ঢাকা ত্যাগ করেন। সেখানে ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় থেকে তিনি পা, হাঁটু ও চোখের চিকিৎসা করান।

 


*

*

Top