আজ বিশ্ব ঘুম দিবস

sleepday-105969

যারা ঘুমোতে ভালোবাসেন, তাদের কাছে এই দিনটি পালনের অবশ্যই কারণ রয়েছে। কারণ আজ ১৬ মার্চ বিশ্ব ঘুম দিবস। প্রতিবছর এই দিনটিকে পালন করা হয়। তবে তারিখের হেরফের হয়ে থাকে। ২০০৮ সালে প্রথমবার এই দিনটি পালন করে ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অফ স্লিপ মেডিসিন’-এর ওয়ার্ল্ড স্লিপ ডে কমিটি। এই কমিটির মূল উদ্দেশ্য, ঘুমের অভাবে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি সম্বন্ধে মানুষকে জানানো।

প্রতি বছরই একটি নতুন স্লোগান নিয়ে এই দিনটি পালন করা হয়। ২০০৮ সালে, সেই স্লোগান ছিল ‘স্লিপ ওয়েল, লিভ ফুললি অ্যাওয়েক’, মানে ‘ভাল করে ঘুমান ও ভাল করে বাঁচুন’। বিশ্ব ঘুম দিবস মূলত ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব স্লিপ মেডিসিনের অর্থায়নে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ইভেন্ট। এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের অন্তত ১০০ মিলিয়ন মানুষের পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। এছাড়া ২২ মিলিয়ন আমেরিকান নিদ্রাহীনতায় ভোগে।

অ্যাডিলেইডসের ফিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক লিন্ডন ল্যাক এক গবেষণায় দেখেছেন, ছুটির দিনে দুই ঘণ্টা বেশি ঘুমালে বডি ক্লক ৪৫ মিনিট বিলম্বিত করে। এর ফলে ছুটির দিনগত রাতে আপনার ঘুম কম হবে, সপ্তাহ শুরুর দিনের কাজে আপনাকে পরিশ্রান্ত মনে হবে।

সাধারণত ছুটির দিনে ঘুমের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। কোনো দেশে সাপ্তাহিক ছুটি রোববার। বেশির ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত দেশে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার। যে দেশে সাপ্তাহিক ছুটি রোববার, সে দেশের মানুষ শনিবার কাজ শেষে রাতে ঘুমাতে গিয়ে পরদিন সকালে বেশ দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন। ফলে দেখা যায়, রোববার দিনশেষে আসা রাতে তাদের ঘুম কম হয়। এতে করে পরদিন সোমবার কাজে গিয়ে শরীর ও মন কাজের উপযোগী থাকে না।

অতএব সপ্তাহের প্রতি রাতেই ৮ ঘণ্টা করে ঘুমানোর পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, ছুটির দিনটিতে শরীরে ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়ার জন্য ৬ থেকে ৮ মিনিট রোদ-তাপ লাগান। এমনকি কিছুটা দেরিতে উঠলেও রোদ-তাপ লাগাতে ভুলবেন না। কারণ সূর্যের আলো আপনার বডি কক বা দেহঘড়ি ঠিক রাখে। প্রয়োজনে দুপুর বেলা স্বল্পসময় ঘুমিয়ে নিন।

কম মাত্রার ভিটামিন ‘ডি’র সংশ্লিষ্টতা রয়েছে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, ক্যান্সার ও অস্টিওপোরোসিস রোগের সাথে। এখানে উল্লিখিত চারটি রোগের মধ্যে প্রথম তিনটির সাথে আমাদের সবার কম-বেশি পরিচয় রয়েছে। উল্লিখিত চতুর্থ রোগ অস্টিওপরোসিস হচ্ছে এমন একটি রোগ, যার ফলে মানুষের হাড়ের ওজন কমে যায়। হাড়ের ঘনত্ব কমে। হাড়ের আকার বাড়ে কিন্তু এর মধ্যে বহু ছিদ্র সৃষ্টি হয়। এর ভঙ্গুরতাও বাড়ে। ঘুমানো মানেই সময় নষ্ট করা—এই ভুল ধারণা আমাদের অনেকেরই আছে। ঘুম অবশ্যই দরকারি।

গবেষণা বলছে, ঘুমের নানা ইতিবাচক দিকের কথা। তারা বলছে, নিয়মিত ভালো ঘুম হলে পরবর্তী জীবনে দারুণ প্রভাব পড়তে পারে। গবেষণাটি করেছে টেক্সাসের বেয়লর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্লিপ নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড কগনিশন ল্যাবরেটরি। ওই গবেষণায় দেখা যায়, মধ্যবয়সে ভালো ঘুম ভবিষ্যতের মানসিক প্রশান্তির জন্য দারুণ এক পুঁজি হিসেবে কাজ করতে পারে। মধ্যবয়স বলতে ত্রিশোর্ধ্ব সময়কে বোঝানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ওয়াজি-উল-আলম চৌধুরী বলেন, ভালো ঘুমের সঙ্গে স্মৃতিশক্তির বেশ নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে। সাধারণত বৃদ্ধ বয়সে স্বাভাবিকভাবেই স্মৃতিশক্তি লোপ পায়, মানসিক দুর্বলতা তৈরি হয়। ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই শেষ বয়সে অনেকেরই অনিদ্রা প্রায় নিয়মিত সমস্যা হয়ে দেখা দেয়। মধ্যবয়সে একজন মানুষ নিয়ম মেনে পরিমিত ঘুমালে তার সুফল বৃদ্ধ বয়সে পৌঁছার পর সবদিক থেকেই পেতে পারেন।

হঠাৎ নিয়মের বাইরে গিয়ে ঘুমের তারতম্য হলে তা শরীরে অতিরিক্ত মেদ সঞ্চারের পাশাপাশি ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের জন্ম দিতে পারে। মূলত কর্মমুখর সপ্তাহ এবং ছুটির দিনের মাঝে ঘুমের যে বিশাল পার্থক্য হয়, এতে দেহঘড়িটা হঠাৎই দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ে। আর এই অবস্থাকেই বিজ্ঞানীরা বলছেন ‘সোশ্যাল জেট-ল্যাগ’।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর মার্চ মাসের তৃতীয় শুক্রবার পালন করা হয় ‘ওয়ার্ল্ড স্লিপ ডে’ বা বিশ্ব ঘুম দিবস।


*

*

Top