অস্ট্রেলিয়ায় সু চির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলার আবেদন

aung-san-suu-kyi

মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও কার্যত সরকার প্রধান (ডি-ফ্যাক্টো) অং সান সু চির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে মেলবোর্নের একটি বিচারিক আদালতে মামলার আবেদন করেছেন অস্ট্রেলিয়ার পাঁচজন আইনজীবী।

তবে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের অনুমোদন মিললেই সু চির বিরুদ্ধে মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। এ ব্যাপারে আগামী সপ্তাহের মধ্যে আদালতের সিদ্ধান্ত জানা যাবে বলে বৃটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান খবর দিয়েছে।

শুক্রবার মেলবোর্নের একটি বিচারিক আদালতে সু চির বিরদ্ধে প্রাইভেট প্রসিকিউশন অ্যাপ্লিকেশন জমা দেন অস্ট্রেলিয়ার পাঁচজন আইনজীবী। এদের মধ্যে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল আদালতের সাবেক বিচারক এবং মেলবোর্নের ব্যারিস্টার রন মের্কেল, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবি মারিয়ন ইসাবেল, রিয়েলিনি শার্প, সিডনি হিউম্যান রাইটসের আইনজীবি আলিসন ব্যাটিসন এবং ডানিয়েল টেইলর।

প্রতিবেদনে দ্য গার্ডিয়ান বলছে, মামলার আবেদনে সু চির বিরুদ্ধে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন বন্ধে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। যথাযথ তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সু চির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যদিও অস্ট্রেলিয়ার বিচার ব্যবস্থা অনুযায়ী দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের অনুমোদন না পেলে প্রাইভেট প্রসিকিউশন অ্যাপ্লিকেশন আমলে নেয়া হয় না।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, মেলবোর্নের বিচাররিক আদালত পাঁচ আইনজীবির মামলার আবেদনটি মূল্যায়ন করেছেন। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত জানা যাবে। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিশ্চিয়ান পোর্টারের কাছে সু চির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমতি চেয়ে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মিয়ানমারের সরাসরি সরকার প্রধান না হলেও সু চি কার্যত দেশটির সরকার প্রধান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি। এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার আদালত মামলাটি আমলে নেবে কিনা জানতে অপেক্ষা করতে হবে।

প্রসঙ্গত মিয়ানমারের নেত্রী সান সু চি বর্তমানে আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিতে অস্ট্রলিয়া সফরে রয়েছেন। তার সফরকে কেন্দ্র করে মানবাধিকার কর্মীরা অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিক্ষোভে তারা রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নির্মূল অভিযান বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে দাবি জানান।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


*

*

Top